সিগারেটের দাম বাড়বে জেনে লাউয়ের ডগা দিয়ে ধুমপান করছে নোয়াখালীর সেলিম।


Image result for cigarette smoking  young village man
বেনসনের দাম ২০, হলিউডের দাম ২৫, গত দুদিন ধরে সিগারেটের মূল্যবৃদ্ধি সম্পর্কে এমন একটি প্রতিবেদন বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে ভেসে বেড়াচ্ছে। আগেই বলেছি, আমাদের বাসার দারোয়ান সিদ্দিক বেশ স্মার্ট এবং ডিজিটালাইজড। সে তথ্যপ্রযুক্তি সম্পর্কে অগাধ জ্ঞানের অধিকারী। তাকে দেখলাম এরকমই একটা নিউজ শেয়ার দিয়েছে। ক্যাপশনে সিগারেটমন্ত্রীকে নিয়ে বাজে ভাষায় বকাঝকা করেছে। এই জানোয়ারটাকে কিভাবে বুঝাবো যে, সিগারেটমন্ত্রী বলে কিছু নেই। ও তো অশিক্ষিত বোকাচোদা। ওরে বললে তো বুঝবেনা। বুঝলেও বিশ্বাস করতে চাইবেনা। সেলিমের সাথে গোপনে আমাকে নিয়ে হাসিঠাট্টা করবে…

সেলিমের পরিচয়টা দেয়া হয়নি। এখন দিচ্ছি…
অনেকদিন ধরে খেয়াল করতেসি দারোয়ান সিদ্দিকের সাথে একটা যুবকের বেশ আনাগোনা। বলতে গেলে একরকম মাখামাখি সম্পর্ক। একজন আরেকজনের শরীরে টাচ করে। ফোনে কি যেনো দেখে হাসাহাসি করে। খুব সম্ভবত ফানি ভিডিও দেখে। আমাকে দেখলেই পালিয়ে যায়। একদিন দুজনকে দেখলাম সিগারেটের সুকা বের করে নিচে ফেলে দিচ্ছে। একজন আরেকজনকে বলছে, “অ্যাই তুই অপচয় করছিস কেনো? এইটা দিয়ে তো আরেকটা বানানো যেত…ট
আমার মনে সন্দেহ জাগলো। ছেলেটি চলে যাবার পর আমি নিচে নেমে সিদ্দিককে জিজ্ঞেস করলাম, “ও কে? তুমি কেনো তার শরীরে টাচ করো এবং হাসো?”
সিদ্দিক বললো, “ওর নাম সেলিম। নোয়াখালী থেকে এসেছে। ওর মনে অনেক কষ্ট। ওর আব্বু দুই বিয়ে করছে। দুই আম্মুই ভাইগা গেছে” !
সিদ্দিকের কথা শুনে আমারো মন গলে গেলো। আমি তাকে বললাম, সেলিমকে এখানে নিয়ে আয়। তোর রুমে নিয়ে রাখ…
… ঘটনা এখানেই শেষ হলে পারত। কিন্তু তা হলো না !
ইউটিউবে বন্ধু শাইখ সিরাজের ভিডিও দেখে আমার শখ হয়েছে বাড়ির ছাদে সবজি চাষ করার। কদিন আগেও টিভিতে দেখলাম, সিরাজের ভিডিও দেখে মুচওয়ালা সিঙ্গার কুমার বিশ্বজিৎ বাড়ির ছাদে তরুতরকারী চাষ করে সমাজের রোল মডেল হয়েছে। নীলফামারির এক গরিব চাষীও নাকি কোটিপতি হয়ে গেছে। লুঙ্গি ছেড়ে এখন প্যান্ট পরে ঘুরে। এই এক বিরাট ঘটনা। আরেকদিন বলবো…
তো বন্ধুর সিরাজের ভিডিও দেখে আমিও বাসার ছাদে লাউ, ভেন্ডি, গোলাপ ফুল সহ আরো নানান প্রজাতির ফলমূল সবজি চাষ করা শুরু করেছি। গাছে ফলও ধরেছে। লাউগুলা দেখলে হেলিকপ্টার থেকে মানুষেরা জানালা দিয় মুখ বের করে তাকিয়ে থাকে। অনেকে দুষ্টমি করে থুতুও দেয়। আবার কেউ কেউ জিজ্ঞেস করে, এগুলা কি খাওয়ার জন্য? নাকি বেচার জন্য?
… গত কদিন যাবৎ খেয়াল করলাম, কয়েকটা লাউ মিসিং। প্রত্যেকদিন একটি করে লাউ হারিয়ে যাচ্ছে। আর আজকে দেখি, শুধু লাউ নয়, লাউয়ের ডোগা পর্যন্ত চুরি হয়ে গেছে !
আমার মনে সন্দেহ জাগলো। চোর ধরার জন্য আমি গাজী ট্যাংকের ভিতর শরীর ডুবিয়ে ঢাকনা লাগিয়ে বসে রইলাম। এতে অবশ্য একটা উপকারও পেলাম। গরমের ভাবটা কেটে গেলো। বুদ্ধি করে শ্যাম্পু আর মোবাইলটা নিয়ে আসলে ভরপুর গোসল হয়ে যেত…
আমি বসে আছি, বসে আছি, কত মানুষ আসে যায়। চোর আর আসেনা। ওদিকে টাংকিও খালি হয়ে যাচ্ছে। দুপুর বেলা, মানুষের গোসলের টাইম…
…আমি বের হয়ে আসতে যাবো, এমন সময় দেখলাম, নোয়াখালীর সেলিম ছাদে প্রবেশ করেছে। ছাদে ঢুকেই সে কাকে যেনো ফোন করলো। ফোনে বললো, “বস, ডোগা তো আর চাইরটা আছে। কি করবো?”
খুব সম্ভবত ওপাশ থেকে তাকে বলা হলো, যা আছে সব ছিঁড়ে নিয়ে আসো…
কারণ ফোনটি পেছনে ঢুকিয়েই (লুঙ্গির) সেলিম লাউয়ের ডোগা ছেঁড়া শুরু করলো। পকেট থেকে একটি সিগারেট বের করে মাপ দিয়ে সে একেকটা ডোগাকে ৪ ভাগ করলো। আমি আর দেরি না করে গাজী ট্যাংক থেকে বেরিয়ে এলাম। পেছন থেকে সেলিমকে জাপটে ধরলাম। অনেকক্ষণ সেলিমের সাথে কুদাকুদি করলাম। একপর্যায়ে সে আমাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে ফেলে পালিয়ে গেলো। কিন্তু তার লুঙ্গি সহ ফোনটা আমার হাতেই রয়ে গেলো…
“ক্রিং ক্রিং ক্রিং ক্রিং”
সেলিমের মোবাইলে কল এসেছে। একি ! এটা তো সিদ্দিকের নাম্বার। আমি সেলিমের লুঙ্গি দিয়ে মুখ চেপে কল রিসিভ করে নরম গলায় বললাম, “জ্বি বস বলেন”
সিদ্দিক বললো, “চলে যায়, কামঅন”
ঘটনা বুঝতে আর বাকি রইলোনা। নিচে গিয়ে সিদ্দিককে চেপে ধরলাম। সিদ্দিক এবার উপায় না পেয়ে অকপটে সব স্বীকার করে নিলো। সিগারেটের দাম বাড়ার গুজবে কান দিয়ে ওরা বিকল্প উপায় হিসেবে লাউয়ের ডোগা শুকিয়ে ধুমপান করার চেষ্টা করেছে। আর এই প্রকল্প ভূমিষ্ঠ হয়েছে সেলিমের মাথা থেকে…
…নাহ, এই অবুঝ নোয়াখালীর মানুষগুলোকে নিয়ে আর পারা গেলো না। একটা লাউ বাসায় আছে। তিনটার মৌসুমীদের বাসায় উপঢৌকন হিসেবে পাঠানোর জন্য এনে রেখেছি। ইফতারটা যাক, এটা দিয়েই সেলিমরে মারবো।
নাকি ভকে দিবো? তোমরা কি বলো? আমাকে জানাও, নাকি?

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.